শুক্রবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৪

পরিমেল নিয়মাবলীর বিষয়বস্তু

পরিমেল নিয়মাবলীর বিষয়বস্তুঃ পরিমেল নিয়মাবলী হল কোম্পানীর দ্বিতীয় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এতে কোম্পানীর আভ্যন্তরীণ পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার যাবতীয় বিষয়াদি বিস্তারিতভাবে লিপিবদ্ধ থাকে। পরিমেল নিয়মাবলীর অন্তুর্ভূক্ত বিষয়সমূহ নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ
  1.           কোম্পানীর পূর্ণ নাম।
  2. কোম্পানীর দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা ও ব্যাবস্থাপনার নিয়মাবলী।
  3. পরিচালক ও ব্যবস্থাপক পরিচালকের নাম ঠিকানা ও পেশা।
  4. পরিচালক ও ব্যবস্থাপক পরিচালকের দায়িত্ব, কর্তব্য, অধিকার ও ক্ষ্মতা।
  5. পরিচালকদের যোগ্যতাসূচক শেয়ারের সংখ্যা ও মূল্য।
  6. পরিচালকের সংখ্যা।
  7. পরিচালকদের পারিশ্রমিক।
  8. ব্যবস্থাপক ও সচিব নিয়োগ পদ্ধতি।
  9. অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণ।
  10. পরিচালকদের অবসর গ্রহণ, দায়িত্ব অব্যাহতি।
  11. মোট শেয়ারের সংখ্যাও শ্রেণীবিভাগ।
  12. প্রতিটি শেয়ারের মূল্য।
  13. শেয়ার বিক্রয় পদ্ধতি।
  14. শেয়ারের মূল্য পরিশোধের পদ্ধতি।
  15. শেয়ার বিক্রির কমিশন।
  16. শেয়ার বাজেয়াপ করার শর্তাবলী ও নিয়মাবলী।
  17. শেয়ার হস্তান্তরের নিয়মাবলী,
  18. ঋণ গ্রহণ পদ্ধতি।
  19. মূলধন পরিবর্তনের নিয়মাবলী।
  20. সভা আহ্বান পদ্ধতি।
  21. সভা পরিচালনা পদ্ধতি।
  22. সভায় ভোট গ্রহণ করার পদ্ধতি।
  23. সদস্যদের ভোটাধিকার।
  24. হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি।
  25. হিসাব নিরীক্ষা পদ্ধতি।
  26. হিসাব নিরীক্ষদের নাম ও ঠিকানা।
  27. লভ্যাংশ ঘোষনার নিয়ম।
  28. কোম্পানীর সীলমোহর রক্ষন ও তার ব্যবহার পদ্ধতি।
  29. ব্যাংকারের নাম ও ঠিকানা।
  30. কোম্পানী বিলোপসাধন পদ্ধতি ইত্যাদি।

স্মারক লিপি ও পরিমেল নিয়মাবলীর মধ্যে পার্থক্য

স্মারক লিপি ও পরিমেল নিয়মাবলীর মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা কর।
উত্তরঃ স্মারক লিপি ও পরিমেল নিয়মাবলী কোম্পানীর দুটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এদের বিহশয়বস্তুর মধ্যে কিছুটা সাদৃশ্য থাকলেও তাদের গটনরীতি, প্রকৃতি এবং ধারাভ সংযোজনসমূহের মধ্যে বেশ পার্থক্য দেখা যায়। নিম্নে স্মারকলিপি ও পরিমেল নিয়মাবলীর মধ্যকার পার্থক্যসমূহ উল্লেখ করা হলঃ
১। সংগাঃ স্মারকলিপি- যে দলিলে যৌথমূলধনী কারবারের নাম, কার্যক্ষেত্র, উদ্দেশ্য, মূলধনের পরিমাণ, সদস্যদের দায় প্রভৃতি বিষয় লিপিবদ্ধ থাকে তাকে স্মারকলিপি বলে।
       পরিমেল নিয়মাবলীঃ যে দলিলে যৌথমূলধনী কারবারের আভ্যন্ত্রীণ কার্য পরিচালনা সংক্রান্ত নিয়মাবলী লিপিবদ্ধ থাকে তাকে পরিমেল নিয়মাবলী বলে।
২। মর্যাদাঃ স্মারকলিপি কোম্পানীর মূখ্য দলিল।
       পরিমেল নিয়মবলী -পরিমেল নিয়মবলী কোম্পানীর গৌণ দলিল।
৩। সম্পর্কঃ  স্মারকলিপি-এর দ্বারা বহির্বিশ্বের সাথে কোম্পানীর সম্পর্ক নির্ধারিত হয়।
       পরিমেল নিয়মবলী- এর দ্বারা কোম্পানীর অভ্যন্তরের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে পারষ্পরিক সম্পর্ক নির্ধারিত হয়।
৪। বিষয়বস্তুঃ স্মারকলিপি- এতে কোম্পানীর যাবতীয় বিষয়বস্তু সাধারণভাবে উল্লেখ করা হয়।
       পরিমেল নিয়মবলী- এতে কোম্পানীর যাবতীয় বিষয়বস্তুর বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়।
৫। অপরিহার্যতাঃ স্মারকলিপি- সব ধরনের কোম্পানীর জন্য স্মারকলিপি অপরিহার্য।
       পরিমেল নিয়মবলী- সব ধরনের কোম্পানীর জন্য পরিমেল নিয়মাবলী অপরিহার্য নয়।
৬। নিবন্ধনঃ স্মারকলিপি- স্মারকলিপির নিবন্ধন সকল ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক।
       
পরিমেল নিয়মবলী- সকল ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক নয়।
৭। পরিবর্তনঃ স্মারকলিপি- স্মারকলিপি সহজে পরিবর্তন করা যায় না।
      পরিমেল নিয়মাবলী অতি সহজে পরিবর্তন করা যায়।
৮। রচনার ভিত্তিঃ স্মারকলিপি- এটি কোম্পানী আইন অনুসারে রচিত হয়।
       পরিমেল নিয়মাবলী কোম্পানী আইন ও স্মারকলিপি অনুসারে রচিত হয়।
৯।  নিয়ন্ত্রণঃ স্মারকলিপি- কোম্পানী আইনের দ্বারা নিয়ন্তিত হয়।
         পরিমেল নিয়মাবলী কোম্পানী আইন ও স্মারকলিপি উভয়ের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
১০। বিকল্পঃ স্মারকলিপির কোন বিকল্প নেই।
       পরিমেল নিয়মাবলীর বিকল্প আছে।

বুধবার, ২৪ জুলাই, ২০১৩

কখন মুখ্য শর্তকে গৌণ শর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়?

অনেক সময় মুখ্য শর্তকে গৌণ শর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৩০ সালের পণ্য বিক্রয় আইন অনুযায়ী নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে মুখ্য শর্ত গৌণ শর্ত হিসেবে গণ্য হতে পারেঃ

  1. স্বেচ্ছাকৃত পরিহারঃ ক্রেতা মুখ্য শর্ত ভঙ্গকে গৌণ শর্ত হিসেবে গ্রহণ করলে এবং চুক্তি বর্জন না করে ক্ষতিপূরণের জন্য মামলা দায়ের করলে মুখ্য শর্ত গৌণ শর্ত হিসেবে গণ্য হয়। [১৩(১) ধারা]
  2. বাধ্যতামূলক পরিহারঃ যে পণ্য বিক্রয় চুক্তিকে পৃথক করা যায় না এবং ক্রেতা সকল পণ্য বা তাঁর কিছু অংশ গ্রহণ করেছে অথবা নির্দিষ্ট পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে পণ্যের মালিকানা ক্রেতার নিকট হস্তান্তরিত হয়েছে সেক্ষেত্রে বিক্রেতার দ্বারা পণ্য ফেরত বা চুক্তি বর্জনের কারণ রুপে গণ্য হবে না। [১৩(২) ধারা]
  3. নির্দিষ্ট পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রেঃ নির্দিষ্ট পণ্য বিক্রয় চুক্তিতে যখন পণ্যের মালিকানা ক্রেতার নিকট হস্তান্তরিত হয়, তখন মুখ্য শর্ত ভঙ্গ হয়েছে এ কারণে ক্রেতা চুক্তিটি বর্জন করতে পারেনা। এরুপ ক্ষেত্রে মুখ্য শর্ত ভঙ্গ, গৌণ শর্ত ভঙ্গ হিসেবে গণ্য হয় এবং ক্রেতা শুধুমাত্র ক্ষতিপূরণ পাবার অধিকারী হয়। [Street Vs. Blake (1831) 2B &Ad. 356]

কোম্পানীর স্মারকলিপির বিষয়বস্তু বা ধারাগুলো বর্ণনা কর।

কোম্পানীর স্মারকলিপির বিষয়বস্তু বা ধারাগুলো বর্ণনা কর।
কোম্পানীর পরিমেলবন্ধের  বিষয়বস্তু কি?
স্মারকলিপি কোম্পানীর সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ দলিল। ১৯৯৪ সালের কোম্পানী আইনের ৬ ধারায় শেয়ার দ্বারা সীমাবদ্ধ কোম্পানী, ৭ ধারায় প্রতিশ্রুতি ধারা সীমাবদ্ধ কোম্পানী এবং ৮ ধারায় অসীম দায়সম্পন্ন কোম্পানীর স্মারকলিপির বিষয়বস্তু  বর্ণিত হয়েছে। আমাদের দেশে বহুল আলোচিত শেয়ার দ্বারা দায় সীমাবদ্ধ প্রাইভেট ও পাবলিক লিমিটেড কোম্পানীর স্মারকলিপিতে যে সকল বিষয়ের উল্লেখ করতে হয় তা নিম্নে উল্লেখ করা হলঃ-
  1. নাম ধারাঃ এ ধারায়  কোম্পানীর না এবং নামের শেষে লিমিটেড শব্দটি উল্লেখ করা হয়। কোম্পানীর নামকরণে দেশে প্রচলিত অন্য কোন কোম্পানীর নাম ব্যবহার করা আইনসম্মত নয়। এছাড়া সরকারের অনুমতি ছাড়া রাজা, রাণী, রাষ্ট্রপতি প্রভৃতি শব্দ কোম্পানীর নামকরণে ব্যবহার করা যায় না।
  2. অবস্থান ও ঠিকানা ধারাঃ এ ধারায় কোম্পানী নিবন্ধিত অফিসের অবস্থান ও ঠিকানা এবং কোন এলাকায় কোম্পানী কারবার পরিচালনা করবে তার উল্লেখ করা হয়।
  3. কারবারের এলাকা ধারাঃ এ ধারায় ভবিষ্যতে কোম্পানী যে সমস্ত এলাকায় কারবার করবে তা উল্লেখ থাকে।
  4. উদ্দেশ্য ধারাঃ এ ধারায় কোম্পানী গঠনের মূল উদ্দেশ্য বা কার্যক্ষেত্র উল্লেখ করা হয়। এ ধারায় উল্লেখ করা হয়নি এমন কোন কাজ কোম্পানী করতে পারে না।
  5. দায় ধারাঃ এ ধারায় শেয়ার মালিকদের দায়-দায়িত্বের প্রকৃতি উল্লেখ থাকে। শেয়ার মালিকদের দায় ক্রীত শেয়ারের মূল্য দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকবে, না প্রতিশ্রুতি দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকবে তার স্পষ্ট উল্লেখ করতে হয়।
  6. মূলধন ধারাঃ এ ধারায় কোম্পানীর অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণ এবং প্রতিটি শেয়ারের মূল্য কত হবে তা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ থাকে।
  7. সম্মতি ধারাঃ এ ধারায় কোম্পানীর প্রাথমিক পরিচালকগণ নির্দিষ্ট সংখক শেয়ার ক্রয় করে পরিচালক হিসেবে কাজ করার সম্মতি উল্লেখ করা হয়।
কোম্পানীর কর্মপরিধি ও কর্মক্ষমতার সীমা স্মারকলিপির উপরোক্ত বিষয়বস্তু বা ধারার আলোকেই নির্ধারিত হয়। এর কোন পরবর্তনের ক্ষেত্রে সাধারণ ও বিশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ক্ষেত্রবিশেষে আদালত ও সরকারের অনুমোদন গ্রহণ করতে হয়।

স্মারকলিপি কাকে বলে?

স্মারকলিপি হল কোম্পানীর মূল দলিল, সনদ বা সংবিধান। এতে কোম্পানীর মূল বিষয়াবলী লিপিবদ্ধ করা হয়। এর মাধ্যমে কোম্পানীর কার্যক্ষেত্রে ও কোম্পানীর সীমা নির্দিষ্ট করা হয়ে থাকে।
যে দলিলে কোম্পানীর নাম, কার্যক্ষেত্র, উদ্দেশ্য, মূলধনের পরিমাণ, সদস্যদের দায় প্রভূতি বিষয় লিপিবদ্ধ থাকে তাকেই স্মারকলিপি বলে।
স্মারকলিপির কতিপয় সংজ্ঞা নিম্নে দেওয়া হলঃ-
১৯৯৪ সালের কোম্পানী আইনের ২(১-ফ) ধারায় বলা হয়েছে, "স্মারকলিপি বলতে কোন কোম্পানীর বা সমিতির স্মারক বুঝাবে যা প্রথমে প্রণীত হয়েছে অথবা পরে অত্র আইনের বিধান অনুসারে পরিবর্তিত হয়েছে।"
বিচারপতি লর্ড কেয়ার্নস বলেন, "The Memorandum of Association of a company is its charter and defines its limitation of the powers of the company, established under the act."
পরিশেষে বলা যায়, স্মারকলিপি হলো কোম্পানীর মূল দলিল, সনদ বা সংবিধান যাতে কোম্পানীর মূল বিষয়াবলী বিশেষত উদ্দেশ্য, কার্যপরিধি ও ক্ষমতার সীমা নির্দিষ্ট থাকে এবং যার দ্বারা কোম্পানীর সহিত শেয়ারহোল্ডার ও তৃতীয়পক্ষের সম্পর্ক নির্ধারিত হয়।